প্রাভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সিলভানা কাদের সিনহা


প্রগতিশীল যুগেরও আগে থেকে নারীরা সর্বদা তাদের সক্রিয়তার পরিচয় তুলে ধরেছে। তাই তো বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল এবং জোহরা বেগম কাজীর মত পথপ্রদর্শকেরা অন্যান্য দিশেহারা নারীদের আলোর পথ দেখিয়ে গেছেন। বহুকাল ধরে চলে আসা লিঙ্গ বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও তাদের অদম্য মননশক্তি ও সমাজের প্রতি তাদের অবদান, বহু প্রজন্মের নারীদের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করেছে। তবে সময়ের পরিক্রমায় এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে; বর্তমানে কর্পোরেট ফ্রন্টে পুরুষ শাষিত ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় এমন অনেক জটিল স্তরে নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছে। সিলভানা কাদের সিনহাও এই প্রজন্মের অগদূত নারীদের মধ্যে একজন। বৈদেশিক নীতি, উদীয়মান বাজার, এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ জ্ঞান বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা শিল্প নিয়ে তার দর্শনকে বাস্তবায়নে সাহায্য করছে। প্রাভা হেলথ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনাই মিস সিলভানার উদ্দেশ্য।

 

একজন নারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পাশপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলাদেশে প্রাভা হেলথের মতো একটি মেডিকেল সুবিধা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আপনাকে কি কি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল?

 

প্রতিটি দিন একটি নতুন অ্যাডভেঞ্চার, একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। তাই আমি অপ্রত্যাশিতকে প্রত্যাশা করা শিখে গেছি। আমি মনে করি বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মানুষের মূলধন ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সত্যি বলতে এটা তেমন কঠিন ছিলনা, যেমনটা আমি ভেবেছিলাম। প্রাভার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কিছু অসম্ভব প্রতিভাবান ব্যক্তিদের পাশে পেয়ে আমরা খুবই ভাগ্যবান এবং কৃতজ্ঞ।

 

পিডব্লিউসি এর একটি স্ট্যাট্রেজি ও রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের ২৫০০ বৃহত্তর সরকারী প্রতিষ্ঠানে নারী সিইও’র আগমনের হার মাত্র ২.৮%। স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার ক্ষেত্রে এটি আরো কম, ১.৬%। কিভাবে তারা স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকায় আসতে অনুপ্রাণিত হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

 

বিশ্বব্যাপী ও স্থানীয়ভাবে নারীর ক্ষমতায়নে পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা রয়েছে। তবে প্রধানপমন্ত্রী, সংসদ স্পিকার, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় পদের পাশাপাশি ব্যবসাতে প্রভাবশালী পদের দিক দিয়ে নারীর ভূমিকার ক্ষেত্রে আমাদের সমকক্ষ দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো করছে। এরপরও নারীদের প্রায়ই অবমূল্যায়ন করা হয়। অবশ্য এটি আমাকে খুব বেশী ভাবায় না, বরং কিছু ক্ষেত্রে অবমূল্যায়িত হওয়ার পর আমার কাজ আমার হয়ে জবাব দেয়। সত্যি বলতে আমি মনে করি বাংলাদেশে লিঙ্গ সংক্রান্ত বৈষম্যের চেয়ে অর্থ-সামাজিক বাধা অতিক্রম করা বেশি কঠিন। বাংলাদেশে মেডিকেল সেবায় নারী চিকিৎসকেরা প্রায়ই নারী স্বাস্থ্য ও শিশুরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে মনস্থির করেন। আমি আশা করি আমাদের নারীরা মেডিকেলের অন্য বিভাগগুলোতেও ছড়িয়ে পরবেন। আমরা প্রাভা হেলথের সিনিয়র মেডিকেল ডিরেক্টর ডাঃ সিমীন আখতারকে নিয়ে গর্বিত, যিনি কোয়ালিটি এবং হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বহু বছর কাজ করার পাশাপাশি তার বিশেষত্ব তথা ইন্টার্নাল মেডিসিনের উপর সারা বিশ্বে প্র্যাকটিস করেছেন। চিন্তার ধারা পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং আমি আশা করি এটি বহাল থাকবে।

 

সেবার দিক দিয়ে প্রাভা হেলথে আপনি কোন মানগুলো অনুমোদন করেন? স্থানীয় বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের থেকে এটি কীভাবে ভিন্ন?

 

প্রাভা হেলথ একটি বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে যেখানে রোগীদের সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর প্রত্যেকটি প্রক্রিয়া রোগীদের দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় সমাধান প্রদান করতে ডিজাইন করা হয়েছে। আমরা পারিবারিক চিকিৎসকের ধারাটিকে আবার ফিরিয়ে আনছি, যার সাথে আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় থাকবে আছে। যিনি আপনার চিকিৎসা ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকবেন এবং আপনার স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহযোগিতা করবেন। আমাদের পারিবারিক চিকিৎসকরা প্রতিটি সাক্ষাতে আপনার সাথে অন্তত ১০ মিনিট সময় ব্যয় করবে- এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি। রোগী সম্মুখীন হতে পারে এমন মেডিকেল ইস্যুর শতকরা ৮০-৯০ ভাগ একজন পারিবারিক চিকিৎসক অনুধাবন করতে পারেন। হয়তোবা কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে কোন বিশেষজ্ঞ বা হাসপাতালের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন হতে পারে। আমরা অনেক সময় বাংলাদেশের রোগীদেরকে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতি তাদের অনাস্থা সম্পর্কে বলতে শুনি। সাধারণত যারা স্বাস্থ্যসেবার জন্য দেশের বাইরে যান তাদের প্রায়ই বিশাল ব্যয়ভার বহন করতে হয়। জরিপ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের নিমিত্তে বাংলাদেশ ছেড়ে বিদেশে যাতায়াতের পিছনে রোগীদের এক নম্বর কারণ হচ্ছে দেশীয় ব্যবাস্থার উপর অনাস্থা। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বাস যেকোন কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মূল বিন্দু। রোগীরা আরও ভাল অনুভব করে যখন চিকিৎসকেরা তাদের সম্পর্কে জানার জন্যে সময় ব্যয় করেন। রোগী-কেন্দ্রিক পরিচর্যা স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম সামগ্রিক পদ্ধতি। রোগীকে তার ডায়গনসিস ও সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে রোগীকে জড়িত করা এবং তার পারিপার্শ্বিক অবস্থান ও পছন্দকে বিবেচনা করাটাও জরুরি। এটি প্রমাণিত যে রোগী-কেন্দ্রিক পরিচর্যা ক্লিনিকাল ফলাফল এবং পরিতুষ্টির সাথে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ককে উন্নত করে এবং একই সময়ে স্বাস্থ্যসেবায় সামগ্রিক ব্যয় এবং অপচয় হ্রাস পায়। প্রাভা হেলথ রোগী-কেন্দ্রিক পরিচর্যার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যার আছে মানসম্পন্ন নিজস্ব ডায়াগনসিস সেবার পাশপাশি যা প্রযুক্তি সক্ষম। আমাদের গবেষণাগার এবং অন্যান্য সুবিধাগুলো কলেজ অফ আমেরিকান প্যাথোলজি (সিএপি) এবং জয়েন্ট কমিশন অফ ইনকোয়ারি (জেসিআই)-এর আদর্শ অনুযায়ী ডিজাইনকৃত, উভয়ই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সংস্থা যার কাছ থেকে আমরা কয়েক বছরের মধ্যে স্বীকৃতি লাভ করতে আশাবাদী। আমরা বাংলাদেশে ইলেক্ট্রনিক হেলথ রেকর্ডস (ইএইচআর) সহ বাংলাদেশের প্রথম সম্পূর্ণ সমন্বিত হসপিটাল ইনফরমেশন সিস্টেম (এইচআইএস) ও ইন্টারনেট এবং ফোন অ্যাপে সহজলভ্য প্রথম পেশেন্ট পোর্টালের সূচনা করেছি- যা রোগীদের মেডিকেল রেকর্ডস ডাউনলোড করতে, সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে ও চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য পেশাদারদের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। আমরা রোগীকে তার নিজস্ব স্বাস্থ্য পরিচালনার নিমিত্তে সম্ভাব্য সকল উপায়ের মাধ্যমে সাহায্য করতে চাই।

 

কোন বিষয়টি আপনাকে স্বাস্থ্যসেবার উপর বিশেষভাবে দৃষ্টিপাত করতে অনুপ্রাণিত করে? দক্ষিণাংশ এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য শিল্পকে ভালভাবে বুঝে উঠতে আপনার অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড কতটুকু সাহায্য করেছে?

 

আমি আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী একজন বাংলাদেশী এবং আমি বিশ্বব্যাংক ও বড় বড় আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা এবং ওবামার উপদেষ্টা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কাজ করার মধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও উন্নয়নে কর্মজীবন সঞ্চালনের পর প্রাভা হেলথ গঠনের জন্য প্রথমবা্রের মত ঢাকায় আসি। আমি হার্ভার্ড, কলম্বিয়া, এবং ওয়েলসলিতে আমার শিক্ষাজীবন অতিক্রম করি। আমি ভাগ্যবান কারণ আমি কিছু অসাধারণ পেশাদারী অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি কিন্তু কয়েক বছর আগে আমি অনুধাবন করি যে, আমি যা করতে চেয়েছিলাম তা অর্জন করতে পারিনি। আমি সবসময় বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম কিন্তু কিভাবে করবো সেটি বুঝে উঠতে পারিনি। আমার প্রিয়জনদের বহুমুখী অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা এবং দেশের উন্নয়নের এই পর্যায়ে বাজারে এর সুযোগ তীব্রভাবে অনুধাবন করি। বাংলাদেশের অর্থনীতি মধ্যবিত্তের ক্রমবর্ধমান শক্তির উপর ভিত্তি করে নির্মিত, যার জন্য প্রয়োজন একটি সুস্থ জনবসতির। বাংলাদেশের নাগরিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যের মান ও সামাজিক উন্নয়নের সূচকের অভাবনীয় অগ্রগতি হলেও গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা যে পর্যায়ে থাকা দরকার, সে পর্যায়ে নেই। প্রকৃতপক্ষে প্রাথমিক পরিচর্যা ব্যাতীত সামর্থ্যবান যে কেউই প্রাইভেট সিস্টেমের অধীনে বা দেশের বাইরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিজের দেশ ছেড়ে যাওয়া যথার্থই বেমানান। উন্নয়ন খাতে আমার কাজ আমাকে এটাও দৃঢ়ভাবে শিখিয়েছে যে অবকাঠামোগতভাবে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ দারিদ্র্য লাঘব করে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আমাদের সচল চাকাটিকে পুনরাবিষ্কারের প্রয়োজন নেই- এই জ্ঞান এবং অন্যান্য বাজার থেকে লব্ধ শিক্ষার উপর ভিত্তি করে আমার কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে গৃহজাত বা স্থানীয়ভাবে কিছু গড়ে তুলতে তাগিদ দেয়, যা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। "জরিপ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের নিমিত্তে বাংলাদেশ ছেড়ে বিদেশে যাতায়াতের পিছনে রোগীদের এক নম্বর কারণ হচ্ছে দেশীয় ব্যবাস্থার উপর অনাস্থা। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বাস যেকোন কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মূল বিন্দু। রোগীরা আরও ভাল অনুভব করে যখন চিকিৎসকেরা তাদের সম্পর্কে জানার জন্যে সময় ব্যয় করেন। রোগী-কেন্দ্রিক পরিচর্যা স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম সামগ্রিক পদ্ধতি। রোগীকে তার ডায়গনসিস ও সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে রোগীকে জড়িত করা এবং তার পারিপার্শ্বিক অবস্থান ও পছন্দকে বিবেচনা করাটাও জরুরি।"

 

ক্যান্সার রোগীদের বিস্তৃত চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রাভা হেলথ কি কি প্রস্তাব করে?

 

২০১৫ সালের ন্যাশনাল ক্যান্সার স্ট্র্যাটেজির উপর একটি ডিজি স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি বছর ২০০,০০০ জন ক্যান্সারে ভোগেন এবং ১৫০,০০০ জন মারা যান। ২০১৫ সালে এর সংখ্যা ছিল ১,২০০,০০০ জন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে ক্যান্সারের কোনও রেজিস্ট্রি নেই – যা গঠন করতে আমরা আগ্রহী। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা আসলে ১.২ মিলিয়নের অপেক্ষা বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী শুধুমাত্র ফুসফুসের ক্যান্সারেই আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৯৬,০০০ জন। প্রাভা হেলথ মলিকিউলার ক্যান্সার ডায়াগনোসিসের জন্য বাংলাদেশ এর প্রথম পিসিআর ল্যাব গঠন করে। মলিকিউলার ক্যান্সার ডায়াগনস্টিকস প্রাথমিক সনাক্তকরণের পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর সাড়াদান ও রোগ ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে ক্যান্সারে মৃত্যুহার কমাতে পারে। বাংলাদেশে অন্যান্য স্থানে মলিকিউলার ক্যান্সার ডায়াগনসিস পরীক্ষা করা হলেও, ঐসকল স্থান হতে নমুনা বিশ্লেষণের জন্য দেশের বাহিরে পাঠানো হয়। বাংলাদেশে এই পরীক্ষা সঞ্চালনের মাধ্যমে আমরা ত্রুটির হার কমিয়ে আনি, যা বিদেশে নমুনা পরিবহনের সময় ঘটে থাকতে পারে। একইসাথে রোগীর ব্যয় এবং রিপোর্টের জন্য টার্ন এরাউন্ড টাইমও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসছে। ক্যান্সারের রোগীদের জন্য যথাযথ থেরাপি নির্ণয়কালে র‍্যাপিড টার্ন এরাউন্ড টাইম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

দুর্ঘটনা ও ভুল ডায়াগনোসিসের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের প্রাইভেট হাসপাতালগুলো প্রায়ই তুমুল সমালোচনার আওতায় পড়ে। এরকম সময়ে প্রাভা কিভাবে ভোক্তাদের কাছ থেকে আস্থা এবং সুনাম কামনা করে?

 

বাংলাদেশের বহু রোগী ডায়গনস্টিক পরীক্ষা চলাকালে সংঘটিত ভুলের বিষয়ে অভিযোগ করেন এবং সত্যি বলতে অধীনস্থ পরীক্ষাগারে অনির্ভরশীল ফলাফল তৈরি করলে তার জন্যে চিকিৎসকদের দোষারোপ করা ঠিক নয়। রক্তের ৫ টি নমুনা সংগ্রহ করে সারাদেশের বিভিন্ন ফ্যাসিলিটিতে পাঠিয়ে ৫ টি ভিন্ন ফলাফল পাওয়া সাদ্গারণ ব্যাপার মাত্র। প্রাভাতে চেকলিস্ট ব্যবহার সহ ডায়গনসিসে ত্রুটি হার হ্রাস করার জন্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। উল্লেখযোগ্য যে, আমাদের গবেষণাগার এবং অন্যান্য সুবিধাগুলো কলেজ অফ আমেরিকান প্যাথোলজি (সিএপি) এবং জয়েন্ট কমিশন অফ ইনকোয়ারি (জেসিআই)-এর আদর্শ অনুযায়ী নকশা করা হয়েছে। মেডিসিন কোন নিখুঁত বিজ্ঞান নয়। ভুল হতে পারে এমন বিষয়গুলো আমরা যথাসাধ্যভাবে নজরদারি করছি এবং তারপরও কোন ত্রুটি থাকলে এর দায়ভার আমরা নিচ্ছি। এছাড়াও আমরা নিয়মিত রোগীর প্রতিক্রিয়া টুকে রাখি এবং এ থেকে শিক্ষা নেই যাতে আমরা প্রতিটি রোগীর অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করতে পারি।

 

বর্তমানে যে সকল প্রকল্পে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে হতে পারে এমন প্রকল্প নিয়ে আপনি কি বিস্তারিত কিছু বলবেন কি?

 

আমরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সারা দেশে প্রাভার বেশ কয়েকটি ফ্যামিলি হেলথ সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা করছি। এছাড়াও সম্প্রতি আমরা জসলিন ডায়াবেটিস সেন্টার (হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল) এবং নারায়ণা হেলথ সহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি, যার ফলে রোগীরা তাদের ইস্যুগুলো বিদেশের চিকিৎসক দ্বারা থেকে পর্যালোচনা করতে পারবে। আরও অনেক সুবিধা রয়েছে যা আসছে সময়ে আমরা জনগণের সাথে ভাগ করতে আগ্রহী। স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ হল প্রযুক্তি - যদিও আমরা বিশ্বাস করি যে প্রযুক্তি কখনোই পারিবারিক চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। তবে এটি নিখুঁত ডায়াগনোসিস ও ক্লিনিকাল আউটকাম প্রদানের পাশাপাশি রোগীর অভিজ্ঞতাকে উন্নত করতে সাহায্য করবে। সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি, তথ্য এবং বিকল্প সৃজনশীল অর্থায়ন মডেল বিকাশের মাধ্যমে প্রাভা হেলথ বাংলাদেশের লাখো মানুষকে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সক্ষম হবে বলে আশা করা হয়।

 

পরামর্শদাতা এবং মনোবিজ্ঞানীদের মাধ্যমে বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ কমানোর ক্ষেত্রে আপনারা সফল? আত্মহত্যা, আত্মধ্বংসাত্মক আচরণ বা শারীরিক ইমেজ সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের অগ্রগতিতে আরও কি কি করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

 

আমাদের মনোবিজ্ঞানীদের একজন ডাঃ শামীম ফিরদৌস করিম, সাইকোথেরাপিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, যা বিশেষ করে আই চ্যালেঞ্জ ডিসেন্সিটাইজেশন এবং রিপ্রসেসিং (ইএমডিআর) নামে পরিচিত। প্রাথমিকভাবে এটি ট্রমাটিক স্মৃতির সাথে জড়িত পীড়ন উপশমের জন্য নকশা করা হয়েছিল। এটি তাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর যারা নির্দিষ্ট কিছু ট্রমার মধ্যে দিয়ে গেছেন। এই দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিকদের অভাব - যেখানে ১৬০ মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার জন্য মাত্র ২০০ জন মনস্তাত্ত্বিক আছেন। এই ক্ষেত্রটিকে আরও উন্নত করতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তরুণ চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার জন্য সরকারের সহায়তা পেলে খুবই ভালো হতো। আমরা এ ব্যাপারে নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী। আমাদের অন্যান্য সহকর্মীরাও স্থানীয়ভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে উপলব্ধি করতে ও এর বিকাশে কাজ করছে।