প্রাভা কমিউনিটিতে স্বাগতম

অপারেশনাল এক্সেলেন্সঃ দক্ষিণ এশিয়াতে সুলভ স্বাস্থ্যসেবার চাবিকাঠি


অনেক বছর আগে যখন আমি কৈশোরের শেষ পর্যায়ে ছিলাম, আমার আঙ্কলকে এপিলেপ্সির রোগী হিসেবে ডায়াগনোস করা হয় – যা খিঁচুনি দ্বারা বিশিষ্ট একটি দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা।  তখনকার দিনে বেশীরভাগ মানুষই জানত না যে এধরণের একটি অসুখ আছে সুতরাং এটা কীভাবে নির্ণয় করতে হয় সেটাও বুঝত না। আমি তখন ভারতের হায়দ্রাবাদে বসবাস করছি, আমি মূলত জন্মসূত্রে যেখানকার বাসিন্দা, এবং এই রোগের মোকাবেলা করার জন্য আমার আঙ্কলের ও আমার পরিবারের সাথে মুখোমুখি হওয়া কষ্টগুলো দেখেছি। আমার এখনও মনে পড়ে কীভাবে তাকে পুরো শহরজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতাল এবং নিউরোলজিস্টের কাছে নিয়ে জেতাম। কেউই যথাযথ চিকিৎসা বা সেবা দিতে পারতো না। এক পর্যায়ে আমার পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ীতে তৈরি করা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা শুরু করলো যা তার শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল, যা সম্বন্ধে আমরা পরে জানতে পেরেছিলাম। যথোপযুক্ত চিকিত্সার চেষ্টা করার ১০ বছর পর, আমরা অবশেষে একজন উপযুক্ত নিউরোলজিস্টের সন্ধান পেলাম যিনি আমাদেরকে জানালেন যে এর স্থায়ী প্রতিকারের জন্য খুব বেশী দেরি হয়ে গেছে, এবং আমাদের ওষুধের উচ্চ মাত্রার ব্যবহারে তার অবস্থা পরিচালনা করতে হবে।

 

এই ঘটনাটি স্বাস্থ্যসেবা শিল্পের উন্নতির জন্য বিশাল প্রয়োজনের ব্যাপারে আমার চোখ খুলে দেয়। এটা সত্য যে এই উপমহাদেশে, ভারত স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখে, তবে সঠিক নির্ণয় এবং সময়মত চিকিৎসার অভাব এখনও আছে। সব শেষে, আমি বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে আমার মাস্টার্স ডিগ্রিতে সম্পন্ন করলাম, কিন্তু আমার আঙ্কলের সেই ভীষণ কষ্টের মোকাবেলা করার ব্যাপারটি সবসময় আমার মনের ভেতরেই ছিল। টেলিকম সেক্টরে প্রায় দেড় দশক কাজ করার পরে, আমার স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করার সুযোগ হল এবং আমি অবিলম্বে জানতে পেরেছিলাম যে এটি আমার সত্যিকার কলিং।

 

আমি ভারতের অ্যাপোলো ক্লিনিকসে অপারেশনস ও সার্ভিস ডেলিভারির প্রধান হিসেবে যোগদান করি, যেখানে আমি সমগ্র-ভারতের অ্যাপোলো ক্লিনিকগুলির তত্ত্বাবধানের জন্য দায়িত্ব পাই। আমার কর্মজীবনে, আমি দেখেছি যে এই খাতের বেশিরভাগ পেশাজীবীই প্রসেস অনুসরণ করছে না এবং মানের স্ট্যান্ডার্ডগুলি বজায় রাখা হচ্ছে না- যা রোগীদের ও ডাক্তারদের জন্য অত্যাবশ্যক। এটিকে কার্যকর করার জন্য, ক্লিনিকগুলিতে দৈনিক অপারেশনগুলির মসৃণভাবে কাজ সম্পাদন করার লক্ষ্যে আমি ৫৫টি এসওপি তৈরী করলাম।

 

এই বছরের শুরুর দিকে, আমি প্রাভা হেল্‌থের প্রতিষ্ঠাতা মিস সিলভানা সিনহার সাথে তার ভারত ভ্রমণের এক সময়ে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তিনি বাংলাদেশে কার্যকর ও বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাব সম্পর্কে জানালে পরে, আমার প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কে এবং সেখানে সঠিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন সম্পর্কে আমি আরও অবগত হলাম।  যখন আমি প্রাভা হেল্‌থের মূল্যবোধ এবং মিশন সম্পর্কে জানতে পারলাম, তখন এটা আমার কাছে এমন ধরনের কোম্পানী হিসেবে নজর কাড়ে যার কারণে আমার মনে হল যে আমি এর একটি অংশ হতে পারি এবং জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারি। যেহেতু ভারতের একটি সেরা কোম্পানির জন্য কাজ করে আমার অভিজ্ঞতা উন্নীত হয়েছিলো, আমি জানতাম যে বাংলাদেশের মানুষ উপকারে আমি আমার জ্ঞান ব্যবহার করতে পারবো।

 

স্বাস্থ্যসেবা এমন একটি সেক্টর যা মানুষের জীবনের উপরে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এখানে অপারেশনাল ভুলত্রুটির জন্যে কোন স্থান নেই। অতএব, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য রোগীর প্রতি সংবেদনশীলতা, অপারেশনের গুণগত মান বজায় রাখার মানসিকতা পোষণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী শ্রেষ্ঠত্বের দিকে তাদের ব্যবস্থাপকদের দৃষ্টি আরো উৎসর্গ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 

একটি মাল্টি-ডাইমেনশিয়াল পদ্ধতি যা কর্মক্ষমতার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার কেন্দ্রস্থলে হাসপাতাল ও রোগীর মূল্যায়ন করে, তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আরো আর্থিকভাবে টেকসই এবং রোগী-ভিত্তিক সেবা প্রদান করতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সক্রিয়ভাবে কর্মক্ষমতা উন্নতি প্রচেষ্টা এবং অংশগ্রহণের উন্নয়ন করতে মানসিকতাকে উন্মুক্ত রাখা উচিৎ। ক্রমাগত উন্নতি শুধুমাত্র কর্মক্ষম উৎকৃষ্টতারই সাহায্য করে না, একইসাথে মানসম্পন্ন রোগীর যত্ন ও সেবা করা, রোগীর সন্তুষ্টি, সেইসাথে স্টাফ সন্তুষ্টিও নিশ্চিত করে।

 

স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে কার্যকরী উৎকৃষ্টতা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উন্নতি ঘটায় এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্লিনিক্যাল পরিবর্তনশীলতা হ্রাসের জন্য ম্যানেজমেন্টের ধারণাগুলির এবং পন্থার পরিবর্তন করবার উৎসাহ দেয় বেশী। চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে  মানের বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক চিকিত্সার খরচ কমানো।

 

শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের বিপক্ষে প্রধান বাঁধা হচ্ছে অক্ষমতা। অক্ষমতা বিভিন্ন ধরনের হয়, এবং তাদের বিচক্ষণতা দ্বারা সনাক্ত করা এবং অযোগ্যতা এবং ক্রমাগত উন্নতির ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অপারেশনাল এক্সেলেন্সের (ও.ই.) অনেক ধরণের টুলস এবং কনসেপ্ট সমূহ রয়েছে যা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের মাধ্যমে নাটকীয় কিছু ফলাফল পাওয়া যেতে পারে, যেমন – ভ্যাল্যু স্ট্রীম ম্যাপিং (ভি. এস. এম.), ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, ফাইভ এস, ভিজুয়াল ম্যানেজমেন্ট, স্ট্যান্ডার্ডাইজড ওয়ার্ক, এবং পোকা ইয়োক – এরর প্রুফিং। সারা বিশ্বজুড়ে প্রচুরসংখ্যক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এধরণের অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্কগুলো অবলম্বন করেছে।

 

অপারেশনাল এক্সেলেন্স ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোগীর যত্ন এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অনেকগুলি সমস্যা মোকাবেলা করতে সহায়তা হয়, যেমন:

 

  • ওপিডিতে ব্যয় করা প্রায় ৪০% সময়ের ব্যবহার কমে যায় ওয়ার্ক ব্যালেন্স এবং উন্নত রোগীর প্রবাহের মাধ্যমে।

 

  • লেআউটগুলির সংগঠন (বা স্ট্রীমলাইনিং) এবং পুনর্গঠন (বা রি-অরগানাইজিং) রোগীদের দূরত্ব ২০% পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 

  • জায়গার ব্যবহার ৬০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।

 

  • বৈজ্ঞানিক গণনার উপর ভিত্তি করে ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট মডিউলগুলি স্টক আউট এবং স্টকিংয়ের অতিরিক্ততা হ্রাস করতে পারে (মেয়াদপূর্তির পরিস্থিতিতে), স্টক গ্রহণের সময় হ্রাস করতে পারে, ইনভেন্টরি খরচ ইত্যাদিতে বিপুল খরচের সঞ্চয় ঘটাতে সহায়তা করতে পারে, এবং এর ব্যবহারে মেডিসিন ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টে উন্নতি হতে পারে।

 

  • সরবরাহ এবং সরঞ্জাম অনুসন্ধানে নার্সেরা ৯৫% এরও কম সময় ব্যয় করে।

 

  • হাউসকিপিং এবং স্বাস্থ্যবিধির মানগুলি শারীরিক কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সরঞ্জাম ফাইভ এস দ্বারা পরিচালিত হতে পারে।

 

ভারত বা বাংলাদেশের মতো দেশে, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এখনও মধ্যবিত্তের পক্ষে সাশ্রয়ী নয়। এই প্রধান সমস্যাটিকেই প্রাভা হেল্‌থ সম্বোধন করছে। প্রাভার উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিষেবার মান বৃদ্ধিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা।

 

এখনই সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা শিল্পে এক লাফে বহুদূর এগিয়ে যাবার। যদি এখন না হয় তো কখন হবে?