প্রাভা কমিউনিটিতে স্বাগতম

পিডিয়াট্রিক্স এবং যথাযথ শিশু স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা


আমি পিডিয়াট্রিক সার্জারির একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশের চিটাগাং মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা শুরু করি। পরবর্তীকালে, আমি উচ্চতর স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ অর্জনের জন্য যুক্তরাজ্য গিয়েছিলাম। এই সময়েই পিডিয়াট্রিক সার্জারির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আমার। আমি গ্রেট অরোমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক সার্জারি শেখার সময় ব্যয় করেছি এবং যুক্তরাজ্য থেকে সাধারণ সার্জারির বিষয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছি। আমার প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরে, আমি নানইটনের জর্জ এলিয়ট হসপিটালের একজন অবস্থানকারী পরামর্শদাতা ছিলাম। আমি ১৯৮২ইং সালে বাংলাদেশে ফিরে এসে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম। অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিডিয়াট্রিক সার্জারির অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলাম।

 

পিডিয়াট্রিক্স মেডিসিনের এমন একটি শাখা, যা নবজাতক হতে ১৬-১৮ বছরের বয়সের শিশুদের যত্নের জন্যে নিয়োজিত। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যের বিষয়, বৃদ্ধি এবং বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পর্কিত রোগের ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করেন। এটি একটি বিচিত্র এবং উদ্দীপক বিশিষ্টতা, এবং ডাক্তারদের জন্য অতিশয় পুরস্কৃত হবার মত একটি পেশা।

 

বিশ্বব্যাপী, এবং বিশেষ করে আফ্রিকায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায়, ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার একটি অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। ইউনিসেফের ২০১৫ইং সালের একটি বিশ্লেষণে দেখা যায় যে শিশুদের মৃত্যুর হার ১৯৯০ সাল থেকে ৫৩% এর মত কমে গেছে। বিশ্বব্যাপী ১৯৯০ সালে ১২.৭ মিলিয়নের মত অনূর্ধ্ব পাঁচ বয়সের মৃত্যু থেকে ২০১৫ সালে ৫.৯ মিলিয়ন মৃত্যুতে নেমে এসেছে। যাইহোক, এখনও ৫ বছরের কম বয়সী ১৬,০০০ শিশু প্রতিদিনই মারা যায়। এই মৃত্যুর ৪৫% ঘটেছে নবজাতকালের সময়, যা কিনা প্রথম ২8 দিনের ভেতরেই।

 

১৯৯০ সালে বাংলাদেশে প্রতি ১,০০০ জন শিশুর মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল ১৪৪ জন। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা প্রতি ১,০০০ শিশুর মধ্যে ৩৮ জনে ঠেকেছে, যার মাধ্যমে বোঝা যায় যে এই মৃত্যুর হার কমাতে দেশ কি পরিমাণ এগিয়ে এসেছে।

 

বাংলাদেশে শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণসমূহ হচ্ছে প্রসবোত্তর সময়ের জটিলতা, নিউমোনিয়া, প্রসবকাল এবং জন্মের সময়ের মাঝে জটিলতা, ডায়রিয়া, সেপসিস, এবং ম্যালেরিয়া। অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের মৃত্যুগুলোর প্রায় অর্ধেকই পুষ্টির অভাবে হয়। এই মৃত্যুগুলোর অধিকাংশ সহজ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য করা সম্ভব।

 

শিশু বিশেষজ্ঞরা বিস্তৃতভাবে নিম্নলিখিত দিকগুলো নিয়ে কাজ করে:

  • সাধারণ পিডিয়াট্রিক ইউনিট
  • কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা
  • বিশেষায়িত ইউনিট সমূহ যেমন নিওনেটোলজি

 

একটি শিশুর চিকিত্সার থেকে একজন বয়স্ক মানুষের চিকিত্সা পদ্ধতি ভিন্ন। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, এবং প্যাথলজির মধ্যে পার্থক্য আছে। একটি শিশুর যত বৃদ্ধি হয়, অ্যানাটমিক্যাল এবং ফিজিওলজিক্যাল প্যারামিটার সমূহ পরিবর্তন হয়। জন্মগত ত্রুটি, জেনেটিক প্রবণতা এবং উন্নয়নের বিষয়গুলি শিশু বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের কারণ। প্রাপ্তবয়স্কদের এবং শিশুদের মধ্যে আরেকটি বড় পার্থক্য হল চিকিৎসার ব্যাপারে সম্মতি দেয়ার ব্যাপারটা। সাধারণত শিশুরা নিজেদের চিকিৎসার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয় না এবং তাদের অভিভাবকদের এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে হয়। শিশুদের চিকিত্সা করার পরিবর্তে, শিশু বিশেষজ্ঞদের প্রায়ই সন্তানদের বাবা-মায়ের রোগ নিরাময় করতে হয়।

 

উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে, শিশু বিশেষজ্ঞরা যে প্রধান সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হয় সেগুলো হচ্ছে অপুষ্টি ও সংক্রামক রোগগুলি। দারিদ্র্য, পারিবারিক ইতিহাস, শিশু শ্রম এবং অন্যান্যদের অন্তর্ভুক্ত অনেক সামাজিক সমস্যা রয়েছে, যেগুলো দূরীকরণ অত্যান্ত জরুরী। অপুষ্টি হচ্ছে এমন একটি কারণ যা শিশুদের মধ্যে বৃদ্ধির এবং উন্নয়নের হ্রাস ঘটায়, যা অন্যান্য পরিপূরক রোগের পরিপন্থী শিশুদেরকে সংক্রমিত করে তোলে। সংক্রামক ও ডায়রিয়া জাতীয় রোগগুলি অত্যন্ত সাধারণ, এবং এইচআইভি ও হেপাটাইটিস হচ্ছে দেশ বা জাতিগত রোগসমূহ। অ্যাক্সেসযোগ্য চিকিৎসার অভাবে এইসব মারাত্মক রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়।

 

সব দিক মিলিয়ে পিডিয়াট্রিক্স একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব। শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের সর্বোচ্চ সেরা যত্ন নিশ্চিত করাটা আমাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ এমন একটি উন্নয়নশীল দেশ যেখানে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা আর্থিক সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন, সেবা প্রদান করার জন্য এটি আরও বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। বর্তমানে, এই পরিষেবা সরকারী তহবিল, বেসরকারী সংস্থা এবং বেসরকারী খাতের সমন্বয়ের দ্বারা সরবরাহ করা হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন এবং বৃদ্ধির সাথে সাথে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও কল্যাণের উন্নতির জন্য সাহায্য করবে।

 

প্রাভা হেল্‌থে আমরা শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যাপারটিকে অন্যতম প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী আমরা বৃদ্ধি এবং বিকাশের নজরদারি সহ একটি ব্যাপক ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম প্রদান করব। আমরা নিশ্চিত করবো যে শিশুরা যাতে আপ টু ডেট, প্রমাণ-ভিত্তিক চিকিত্সা গ্রহণ করতে পারে।