ল্যাবরেটরি পরিষেবা

প্রাভা ল্যাবরেটরি বাংলাদেশের সর্বাধুনিক স্থাপনাগুলোর একটি। আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য নির্ভুল ল্যাবরেটরি ডায়াগনোসিস একটি অপরিহার্য বিষয়। এর মধ্যে থাকতে পারে রক্ত পরীক্ষা, এমন সব পরীক্ষা যেগুলোতে আপনার মল অথবা মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করতে হয়, এবং অন্যান্য পরিষেবা যেমন প্যাপ টেস্ট ও বায়োপসি, ইত্যাদি। ল্যাব পরীক্ষণ কোন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হতে পারে, ডাক্তারের পক্ষে সম্ভাব্য একটি রোগ নির্ণয়ে সহায়তার অংশ হতে পারে, কিংবা কোন শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য এর প্রয়োজন হতে পারে। আপনার যদি কোন দুরারোগ্য রোগ থেকে থাকে, যেমন উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস, সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার প্রতিনিয়ত কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে পারেন। প্রয়োজন হলে আপনি নিজেও কিছু পরিষেবার জন্যে অনুরোধ করতে পারেন, যেমন যে কোন ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণের জন্য স্ক্রিনিং।

প্রাভা'র সেবাপ্রাঙ্গনে অবস্থিত পূর্ণ পরিসরের ল্যাব পরিষেবার মধ্যে নিম্নোল্লিখিত ল্যাবরেটরিগুলো অন্তর্ভুক্ত:
  • হিস্টোপ্যাথলজি এবং সাইটোপ্যাথলজি
  • বায়োকেমিস্ট্রি + ইম্যুনোকেমিস্ট্রি
  • মাইক্রোবায়োলজি + সিরোলজি
  • হিমাটোলজি + কোয়াগুলেশন
  • মলিকিউলার ক্যান্সার ডায়াগনস্টিকস (পিসিআর)

এর পাশাপাশি, আমরা বাড়ি থেকে রক্ত ও মূত্রের নমুনাসহ আরও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহের সেবাও দিয়ে থাকি। আমরা প্রাভা’তে যে ধরনের মানসম্পন্ন সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেই তা বজায় রাখতে ল্যাবরেটরির কর্তব্যনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য। আমরা চাই আপনি আমাদের ল্যাবে করানো আপনার পরীক্ষার ফলাফলগুলো অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরির ফলাফলের সাথে মিলিয়ে যাচাই করে নিন, যাতে আপনিও নিশ্চিত হতে পারেন আমাদের সেবার মান সম্পর্কে।

মলিক্যুলার ক্যানসার ডায়াগনস্টিকস

আমাদের এই সর্বাধুনিক ল্যাবরেটরিটিতে বাংলাদেশের প্রথম মলিক্যুলার ক্যানসার ডায়াগনস্টিকস (পিসিআর) ল্যাবরেটরিও স্থাপিত হয়েছে।

গোটা বিশ্বে এখন এইচআইভি/এইডস, টিউবারকিউলোসিস, এবং ম্যালেরিয়া, এই তিনটি রোগের কারণে যতো সংখ্যক মৃত্যু ঘটে, তার চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যু ঘটে ক্যানসারের কারণে। কোলোরেক্টাল, ব্রেস্ট, সার্ভিক্যাল, এবং লাঙ্গস ক্যানসারসহ নানা ধরনের ক্যানসার এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সকল জনগণের জন্যে একটি চরম হুমকি। এই সমস্ত রোগের ডায়াগনোসিস করা গেলে এর চিকিৎসা করা যেমন সহজ হবে তেমনি প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করাও সহজ হবে।

ব্রেস্ট, কোলোরেক্টাল, লাঙ্গ, ও প্রোস্টেট ক্যানসার ডায়াগনোসিসের জন্যে অঙ্কলজি মলিক্যুলার ডায়াগনস্টিকস বা মলিক্যুলার ক্যানসার ডায়াগনস্টিকস সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়। এর সাহায্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে মৃত্যুর হার কমে এবং রোগটির সাথে মানিয়ে চলা হয়ে ওঠে সহজতর।

প্রাভা'র ক্যানসার ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা

প্রাভা'র মলিক্যুলার ক্যানসার ডায়াগনস্টিকসের ল্যাবটিতে ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং ডায়াগনোসিসের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম সর্বাধুনিক সেবা ব্যবস্থা প্রস্তুত আছে। কোলোরেক্টাল, ব্রেস্ট, সার্ভিক্যাল এবং লাঙ্গস ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়েই যাতে চিহ্নিত করা যায় সেদিকেই আমাদের মূল লক্ষ্য। এতে করে রোগটির সঠিক ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা করা সহজতর হয়ে যাবে।

    • কেআরএএস জিনের সবচেয়ে প্রচলিত বা সাধারণ সোমাটিক মিউটেশনগুলো সনাক্তকরণে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কার্যকরী একটি পরীক্ষণের নাম কেআরএএস সেভেন মিউটেশনস ডিটেকশন প্রোফাইল। এই পরীক্ষণের মাধ্যমে কোলোরেক্টাল ক্যানসার এবং এর পূর্ববর্তী ক্ষতগুলোর কেআরএএস জিনের এক্সন ২ এর বৃদ্ধি চিহ্নিত করা সম্ভব। কেআরএএস এর ১২ এবং ১৩ কোডনগুলোর মিউটেশন সিআরসি-এর রোগীদের জন্যে দেয়া ইজিএফআর-টার্গেটেড থেরাপির প্রতি প্রতিক্রিয়ার অভাবের সাথে সম্পর্কিত করা হয় (৯৩% এর নিচে)। মিউটেশনের অনুপস্থিতির কারণে বোঝা যায় যে, একজন রোগীর ইজিএফআর-টার্গেটেড থেরাপির প্রতি অধিকতর স্পর্শকাতরতা এবং বেশিদিন বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে।
    • অ্যান্টি-ইজিএফআর থেরাপিকে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য কেআরএএস মিউটেশন চিহ্নিতকরণ
    • ফিকাল অকাল্ট ব্লাড/এফআইটি, পিসিআর-এর মাধ্যমে সেপ্টিন ৯ জিন মিথাইলেশন
    • এই পরীক্ষার মাধ্যমে এইচইআর২ জিনের বিকাশ ঘটে, যার ফলে ট্রাস্টুযুমাব থেরাপির প্রতি এর প্রতিক্রিয়ার পূর্বাভাস সম্বন্ধে জানা যায়। ইতিবাচক ফলাফলের (যাকে অ্যামপ্লিফিকেশন অফ এইচইআর২ বলা হয়) কারণে জানা যায় যে ট্রাস্টুযুমাব থেরাপির প্রতিক্রিয়া হবে। এইচইআর২ ওভার অ্যামপ্লিফিকেশনের জন্যে নমুনার নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিকগুলো সরাসরি আলাদা করে ফেলা যাবে। যে ফলাফল পাওয়া যাবে আলাদা নমুনাগুলোর সাথে পরীক্ষণের মধ্যবর্তী সময়ে তা নিখুঁত এবং তুলনার যোগ্য হবে। স্তনের টিস্যুর নমুনায় এইচইআর২ ডিএনএ ওভার অ্যামপ্লিফিকেশন দ্রুত চিহ্নিত করার জন্য এই রিয়েল টাইম কোয়ানটিটেটিভ পিসিআর টেস্ট অপরিহার্য।
    • অন্য কোথাও পরীক্ষিত আইএইচসি/এফআইএসএইচ-এর ফলাফল নিশ্চিত করতে এইচইআর২ জিনের বিকাশ
    • ম্যামোগ্রাফি, এইচইআর২ জিনের বিকাশ পরীক্ষণ, ইআর/পিআর পরীক্ষণ।
    • হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) হচ্ছে একটি যৌন উপায়ে সংক্রমিত ডিএনএ ভাইরাস যা মানুষের শরীরের স্কুয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে সংক্রমণ তৈরি করে। উচ্চ-ঝুঁকি সম্পন্ন এইচপিভি সংক্রমণ ইউটেরাইন সার্ভিক্সে ক্যানসার কোষের বিকাশের জন্যে আবশ্যক। এই তত্ত্বটি বেশ দৃঢ়ভাবেই প্রতিষ্ঠিত। প্রায় ৯৯.৭% সার্ভিক্যাল ক্যানসারই উচ্চ-ঝুঁকি সম্পন্ন এইচপিভি সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। বিশেষত, এইচপিভি ১৬ এবং এইচপিভি ১৮ অন্তত ৭০% সার্ভিক্যাল ক্যানসার বিকাশের কারণ বলে জানা যায়।
    • এইচপিভি ১৬/১৮ এর জিনোটাইপিং
    • এইচপিভি ১৬/১৮ এর জিনোটাইপিং, পিএপি পরীক্ষণ, সিটি, এমআরআই।
    • রিয়েল টাইম পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ইজিএফআর মিউটেশন
    • যে সকল রোগী মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি (যেমন সেটুক্সিম্যাব, পানিটুম্যুম্যাব) অথবা টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটরস (যেমন আরলোটিনিব)-এর মাধ্যমে অ্যান্টি-ইজিএফআর পেতে পারেন তাদের জন্য।
    • এই পরীক্ষার দ্বারা এক্সন ১৯ এর বাদ পড়া এবং / অথবা এক্সন ২১ (এল৮৫৮আর)-এর মিউটেশন, নন-স্মল সেল লাঙ্গ ক্যানসার (এনএসসিএলসি)-এর সাথে সম্পর্কিত ইজিএফআর জিন এবং এর পূর্ববর্তী ক্ষতসমূহের বিকাশ ঘটে। ইজিএফআর-এর আভ্যন্তরীণ মিউটেশনগুলোকে এনএসসিএলসি-এর রোগীদের মাঝে ইজিএফআর-টার্গেটেড থেরাপির প্রতি প্রতিক্রিয়াহীনতার সাথে সম্পর্কিত করা হয়ে থাকে (৯৩% এর নিচে)। মিউটেশনের অনুপস্থিতির কারণে বোঝা যায় যে, একজন রোগীর ইজিএফআর-টার্গেটেড থেরাপির প্রতি অধিকতর স্পর্শকাতরতা এবং বেশিদিন বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে। যে সকল রোগী টিকেআই থেরাপি পেয়ে থাকেন তাদের মাঝে একধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে এবং তাদের এক্সন ২০ টি৭৯০এম মিউটেশনের প্রয়োজন হতে পারে। যেহেতু এই ধরনের মিউটেশনের বিপরীতধর্মী ইনহিবিটরগুলো বর্ধিত আকারে পাওয়া যায়, আমরা একটি অতিরিক্ত পরীক্ষণের মাধ্যমে ইজিএফআর টি৭৯০এম-এর মিউটেশনের ফলাফলও বের করবো।
    • ইজিএফআর
    • এএলকে
    • আরওএস১
    • বিআরএএফ
    • মিউটেশন ডিটেকশন বা মিউটেশন চিহ্নিতকরণ
    • ইজিএফআর; এএলকে; আরওএস১; বিআরএএফ।
    • সেপ্টিন ৯ লিকুইড বায়োপসি হচ্ছে একটি মলিক্যুলার পরীক্ষা যার মাধ্যমে রক্তে মিথাইলেটেড সেপ্টিন ৯ ডিএনএ-র উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে সেপ্টিন ৯ জিনের ডিএনএ মিথাইলেশন বৃদ্ধি পায়। মিথাইলেটেড সেপ্টিন ৯ ডিএনএ-কে টিউমার ডিএনএ-র ভেতরে পাওয়া যায় যা ছড়িয়ে গেছে, এবং এই প্লাজমা-ভিত্তিক পরীক্ষার জন্য রোগীর প্রস্তুতি প্রয়োজন নেই। স্ক্রিন-যোগ্য রোগীরা, যারা নিয়মিত কোলোরেক্টাল ক্যানসার স্ক্রিনিং পরীক্ষা - যেমন কোলোনোস্কোপি, ফিকাল অকাল্ট রক্ত পরীক্ষা, এবং ফিকাল ইম্যুনোকেমিক্যাল টেস্ট (এফআইটি) এড়িয়ে গেছেন, তাদের জন্য এই পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। এই পরীক্ষাটি পলিমারেজ চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) ব্যবহার করে সেপ্টিন ৯ ডিএনএ টার্গেটের মিথাইলেশন নির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করা যায়। সেপ্টিন ৯ এর পরীক্ষার ফলাফল, চিকিৎসক দ্বারা রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস অ্যাসেসমেন্ট, অন্যান্য ঝুঁকির কারণ এবং পেশাগত নির্দেশিকাগুলোর সাথে মিলিয়ে রোগী ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। যে সকল রোগীদের পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক তাদের ডায়াগনস্টিক কোলোনোস্কোপি করানোর জন্য রেফার করে দেয়া আবশ্যক।
    • টিউমার প্রোফাইল – ফিমেল (টিপিএফ) (মহিলাদের জন্যে)
      • এএফপি, সিইএ, সিএ ১৫.৩, সিএ ১৯.৯, সিএ ১২৫, বি-এইচসিজি
    • টিউমার প্রোফাইল – মেইল (টিপিএফ) (পুরুষদের জন্যে)
      • পিএসএ, ফ্রি- পিএসএ, এএফপি, সিইএ, সিএ ১৯.৯, বি-এইচসিজি
  • প্রাভা অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেবাও প্রদান করে, যা বিআরএএফ, ইজিএফআর, ইএমএল৪-এএলকে, এবং আরওএস১ টার্গেট করতে পারে, এবং সেই সাথে কোলোন ক্যানসার নির্ণয়ের জন্যে সেপটিন ৯ মিথাইলেটেড ডিএনএ-এর সাশ্রয়ী মূল্যে নন-ইনভেসিভ (শরীরে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে না এমন) রক্ত-ভিত্তিক পরীক্ষা (লিকুইড বায়োপসি) চালু করছে।

ডায়াগনস্টিকস-এর পরবর্তী ধাপে যা অপেক্ষা করছে

প্রাভা হেলথ সবসময় স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সাম্প্রতিক খবর ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত থাকে এবং রোগীদের জন্যে সর্বোত্তম মানের সেবার বিকল্প বেছে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখে। ক্যানসারের প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজনীয় সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি এবং আবিষ্কার ব্যবহারে আমরা সবসময় নিয়োজিত থাকবো। আমাদের এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কোয়ান্টিটেশন অফ সার্ক্যুলেটিং টিউমার সেলস, যা অদূর ভবিষ্যতে রোগীদের জন্য সহজলভ্য করা হবে।